অভিযোগঃ ব্লাড দিলাম, রোগির লোক খোঁজ খবর নেয় না।

রক্তদান ও স্বেচ্ছাশ্রম

0
82

অভিযোগঃ ব্লাড দিলাম, রোগির লোক খোঁজ খবর নেয় না।

এগুলো আশা প্রত্যাশা করা যাবে না। এই আশায় ব্লাড দিতে যাওয়াও যাবে না যে খোঁজ খবর নিবে।
তবেই প্রকৃত সুখ অনুভব করা যাবে। আর হ্যাঁ, সবাই এক না। অনেকেই খোঁজ খবর রাখে।
এই যে ফোনে এতো নাম্বার সেভ, সবাইকে কি কল দেয়া হয়? ফ্রেন্ড লিস্টের সবার সাথে কথা হয়? স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বন্ধুদের…. এগুলো বাদই দিলাম, নিজের আত্মীয় গোষ্ঠির সবার সাথে বছরে ১ বার কথা বলা হয়??? অথচ সবার কথাই আমরা মনে করি। সবার জন্যই শুভকামনা, দোয়া, প্রার্থনা করি আমরা সবাই।

আর বেশিরভাগ সময় রক্তদাতা ম্যানেজ হয় আরেক ভলান্টিয়ার এর মাধ্যমে। রক্ত পাওয়ার আগে ভলান্টিয়ার এর নাম্বারে অনেক যোগাযোগ হয়। তাই খেয়াল করে দেখবেন, রোগির লোক যার সাথে কথা বলে তাঁকে পরে ঠিকই ধন্যবাদ জানায়। কারণ এই মানুষটাই অনেক যোগাযোগ-কষ্ট করে ডোনার ম্যানেজ করেছে! ডোনারের নাম্বার তো তাদের কাছে থাকে না অনেক সময়। যদিও উচিত যিনি রক্তদান করলেন তাঁকে ধন্যবাদ দেয়া। এখন আপনিই বলেন, ঐ বিপদের অস্থিরতার সময় এইসব কার্টেসী এর জন্য ডোনার, ভলান্টিয়ার ইত্যাদির নাম্বার নিয়ে সেভ করতে ও কীভাবে ধন্যবাদ জানাবে এসব ভাবনা চিন্তা করবে নাকি রোগি নিয়ে ব্যাস্ত থাকবে?

শুভকামনা কিন্তু সবার জন্যই করা হয়। এই আমরাই কিন্তু কারো মাধ্যমে উপকৃত হলে কোন প্রসঙ্গক্রমে সেটা আলোচনা হলে অবচেতন মনে কিংবা যার সাথে গল্প হচ্ছে তাকে বলেই ফেলি ” আল্লাহ উনার ভাল করুক, অনেক বড় একটা উপকার করছে”। এরকমই অনেক কিছু।

তাই ছেলেমানুষী চিন্তা বাদ দেন।
“দান”, “উপকার” এসবের সংজ্ঞা কী জানেন তো?
কোন স্বার্থ ছাড়া কাজটা করে ফেলা। আর এর প্রতিদান উপরওয়ালা অনেক বড় করে দিবেন। আপনি বড় জোর সওয়াব/পূণের আশায় ভাল কাজ, অন্যের উপকার, রক্তদান এসব করতে পারেন। এটাই তো সবচেয়ে বড় স্বার্থ! কারো কাছে থেকে “ব্যক্তিগত” কিছুর আশায় নয়। যদি সেটাই হয়, তবে সেটা দান বা উপকারের সংজ্ঞায় পড়লো না।

একদিকে ডোনার, অন্যদিকে রক্ত ম্যানেজ করতে বেশ কয়েকজন ভলান্টিয়ার! কয় জনকে ধন্যবাদ জানাবে? এখন আপনি বলতে পারেন যখন রক্ত লাগবে তখন তো ঠিকই অনেকজনকে ফোন দিয়েছিলো।
≠ ভাই, বিপদে আপনিও সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। এটাই স্বাভাবিক। এরপর তো রোগি নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়।

অতঃপর… পরেও তো একদিন ফোন দিতে পারতো…???

সরাসরি না জানাতে পারলেও ঠিকই গল্প করে৷ নিজের দিক দিয়ে কল্পনা করুন।

পুরো লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে বুঝার চেষ্টা করেছেন?
এরপরেও যদি এইসব Silly Matter নিয়ে উসখুস লাগে, এতো ত্যানা পেঁচিয়ে মহান রক্তদান, ভলান্টারি কোন কাজ করার “মানসিক বয়স” আপনার হয় নাই। কারো উপকার, রক্তদান এসব মহান কাজ। ক্ষুদ্র চিন্তা করাটাই বোকামি।

এগুলো ফিলিংস এর কাজ! ফিল করতে হয়রে, feel করতে হয়। একবার ফিল করতে পারলে কারো খোঁজ খবর ধন্যাবাদ লাগবে না। এমনিতেই নিজেকে আলাদীনের চেরাগের মতো বিশাল মনে হবে!

তবে হ্যাঁ, আমরা নিজ নিজ জায়গা থেকে “Thanks Giving” এর চর্চা করবো। এর মানে এই না যে ধন্যবাদ দিবো না! ধন্যবাদ দিলে, ধন্যবাদ পেলে অবশ্যই ভাল লাগে, কাজে আগ্রহ বাড়ে, মানুষ উৎসাহিত হয়। তাই বলে ধন্যবাদের আশায় কাজ করা যাবে না, না পেলে মন খারাপ করা যাবে না। হাত গুটিয়ে ভাল কাজ বন্ধ করা যাবে না। প্রতিদানের মালিক উপর ওয়ালা৷

পরিশেষে, স্কুল কলেজে শুধু কবিতাই পড়েছি, ভাব সম্প্রসারণই করে গিয়েছি আমরা। শিক্ষাটা ধারণ করতে হবে।

পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলি দাও।
তার মত সুখ কোথাও কি আছে?
আপনার কথা ভুলিয়া যাও।
পরের কারণে মরণেও সুখ,
সুখ সুখ করি কেঁদো না আর;
যতই কাঁদিবে ততই ভাবিবে
ততই বাড়িবে হৃদয়-ভার।
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।

আমরা রক্তবন্ধু, রক্তের সম্পর্ক গড়ি 😊

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here