দিনলিপি

2
393
দিনলিপি

দিনলিপি

=========================================================

সামনে কখনো হিমালয় কখনো গ্রিন লাইন, কখনো লাব্বাইক, কখনো প্লাস্টিক কখনো হোন্ডা।ঊর্ধশ্বাসে ছুটে চলছে।যেন কেয়ামত শুরু হয়ে গেছে।পাশ ঘেষে আদ-দ্বীন ৩৩০টাকার এম্বুলেন্স যেন কেয়ামতের আলামতটা প্রকট করে তুলেছে।”আকস্মিক কড়া ব্রেকে হাত দুটো যেন ছিড়ে যাবে
এই মাদারচোদ -বলে এক ভদ্র পেছেঞ্জার খেকিয়ে ওঠে।ড্রাইভার প্রতিউত্তর না করে বলে, ভাই দেখেন ওভারব্রিজ রইতে পাবলিক যদি রাস্তা দিয়া পার হয় কি করমু কন?দেহেন অবস্থা!অহনিতো মত্তো হালায়!
একবার ৭ নম্বর একবার ৮ নম্বর গাড়ি ঘেসাঘেসি করে একটু একটু করে এগুতে থাকে, গুলি অনবরত বের হবার কারণে বন্দুকের যেমন অবস্থা হয় ঢিসঢিস ঢিসঢিস।গাড়ি সামনে যায় নাকি খালি ভাইব্রেশন দেয় বুঝাই যায় না।
মাঝে মাঝে কিছু বৃষ্টি হবার কারণে ভ্যাবসা গরমে জীবন অতিষ্ঠ।এ সময় পাবলিকের ৮ নম্বর বাসে শরীর থেকে টসটস করে ঘাম ঝরতে থাকে।আবার কতগুলো পোলাপান বাসে উঠে ইয়া মস্ত স্কুল ব্যাগ সহ।ব্যাগগুলো হাতে নিলে অন্তত পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা যায়।তা না হেদের ব্যাগের গুতা খাইয়া লোক সোজা হওনের জোগাড় মাগার হেরা নির্বিকার!
***********************
দুইদিন হলো মার্কেটিংয়ের ৫ বছরের চাকরিটা ফুড়ুৎ।আর.এস.এম স্যার নাকি বসকে বলে গেছে আমাকে রিজাইন করতে হবে।চাকরি খাবে তারা কিন্তু ছাড়তে হবে আমাকে!কি বলবো বুঝে উঠতে পারছিলামনা।বসের চাকুরি খাওয়া পুরাণ অভ্যাস।সিস্টেমে হোন্ডার চাবি আর কাগজ নিয়ে নিলো।তরতাজা যৌবনের পাঁচটি বছর খায়া দিলো কোম্পানি। হা!চাকুরী। হা জীবন।
সিগনালে লাল বাত্তি জ্বলে।
*********************************
যা জ্যাম বরঞ্চ হেটেগেলেই আগে যাওয়া যেত।রাত এগারোটা তবুও কুত্তা মার্কা জ্যাম,ছুটে না।রাস্তার দুপাশে ড্রেনের জন্য কাটার ফলে রাস্তাটা দেশের করতোয়া নদীর মত হয়ে গেছে।গাড়িগুলো যেন মরেডুবেভেসে উঠেছে।গণভবনের সামনের রাস্তা খুড়াখুড়ি যদি এত বছরে সমাপ্ত না হয় তবে সারা দেশের রাস্তার কী অবস্থা!রাস্তা কী তবে হিন্দি সিরিয়াল নাকি বাংলাদেশের টিভির বিজ্ঞাপন!
ড্রাইভারের লাগোয়া ইঞ্জিনের পেছনে বাসটার রড ধরে দাঁড়িয়ে আছি ত্রিশ মিনিট হলো।জায়গাটা বিপদজনক, যে কোন সময় মোবাইল, মানিব্যাগ হাওয়া হয়ে যেতে পারে।
সেজন্য জায়গাগুলোর অনুভূতি প্রখর করে রাখতে হয়েছে।৩২ নম্বর থেকে শ্যামলী ১০/- টাকা ভাড়া, রংধনুতে ১০ টাকা দিলে মোহাম্মদপুর পর্যন্ত যাওয়া যায়। মামাটা বুঝতে পারে না। কিন্তু কোন বাসই পাওয়া যায় না।পাওয়া গেলেও উঠা যায় না।তাই ওদিকে না গিয়ে খামার বাড়ির দিয়ে আসা।তবে সাত/ আট মিনিট হাটে আসতে হয়।খামারবাড়ি থেকে লেগুনায় গেলে সূচনা পর্যন্ত ১৫/- টাকা,সেই লাউ কদু।তারচেয়ে খামারবাড়ি থেকে কোনরকমে বাসে উঠতে পারলে ৫ টাকায় শ্যামলী।বাকীটা হেটেও যাওয়া যায় কিংবা বাকীটুকু ৫ টাকায় লেগুনা।এতে টোটাল খরচ ১০ টাকা।প্রতিদিন এভাবে যাতায়াত ১০ টাকা সেভের বুদ্ধি বের করা গেছে।
********************************
হাটা নিয়ে কথা উঠলে হাটা বাবা হায়দারের কথা মনে পড়ে যায়।হাটা ব্যতিত তাকে কখনো গাড়ি,রিক্সা তথা কোন রকম বাহনে আরোহণ করতে দেখিনি।মৃত্যুর পর তিনি ধীরে ধীরে অধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন।
কিন্তু আমার জন্য হাটাটার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা থাকলেও একই সঙ্গে অর্থনৈতিক লাভ ও ক্ষতির কারণ।রিক্সা ভাড়া বাঁচানো যাচ্ছে বলে পকেটে হাত দিতে হচ্ছে না কিন্তু হাটার ফলে নির্গত ঘাম শার্টের গায়ে বিলুপ্তপ্রায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মত সাদা সাদা ডোরাকাটা দাগের মত পঞ্চগড় ওদিকের ভাষায় “ফেদকে” উঠে।তো মার্কেটিং এর বেতন স্মার্ট হোক আর না হোক ফোন আর পোশাক স্মার্ট হতেই হবে।এই স্মার্টনেস আমাদের হাহাকারকে লুকিয়ে রাখতে বেশ স্মার্ট বটে।
তো কখনো হেটে কখনো বাসে চড়ে পোশাকটাকে কেয়া ডিটারজেন্ট ও ইস্ত্রি বাবদের আসন্ন খরচের কবল থেকে রক্ষা করার আরেকটা পদ্ধতি বের করে ফেলি।
বাসটা এবার কলেজগেটে থামিয়ে আরো কিছু ভোটার ভেতরে ঠাসাতে সক্ষম হয়।
গতকাল কিছুটা ফাঁকি দিয়ে ফিরে এখান থেকেই ট্রাক সেল থেকে চাল-ডাল-তেল কিনেছিলাম।আগে কিছুক্ষণ ওৎ পেতে দেখছিলাম পরিচিত কেউ যদি দেখে ফেলে!মোহাম্মদপুরে আবার পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁ-দিনাজপুরের লোকজন দিয়ে ভরা!ব্যাচেলর সিনেমায় তিশাকে লাগাবে বলে নায়ক যেমন করে কনডম চাইতেছিল।যেন আমি সাংবাদিক, কিনতে আসিনি, কিছুটা গম্ভীর স্বর করতে গিয়ে কন্ঠটা কাঁপাকাঁপা হয়ে অদ্ভূত একটা কথা বের হল:
“মামা! চাল কত কইরা বেচতাছ?”
তারপর জিগাই শাক-সবজি বেচোনা?
হেতে অবাক হইয়া আমার দিকে চায়া থাকলে আমি কই
আইচ্ছা!পাঁচ কেজি চাইল দে!
*******************************
অনার্সের রেজাল্টটা বের হবার আগেই সম্ভাবনাময় সকল আত্মীয়-স্বজনকে বলে রাখলেও কেউ কোন চাকরিই শেষ পর্যন্ত দিলো না।তবে তিতুমীর কলেজে মাস্টার্স করার জন্য মানবিক একটা আশ্রয় পেয়েছিলাম।বাবা তখন পেনশনভোগী।লিতা আপা আর মরিয়ম ভাবি মিলে ফর্ম ফিলাপের টাকাটা দিয়েছিল বলে রক্ষা।
এই ঋন শুধিবো আমি কেমন করে?আমি তো আমি, আমার বন্ধু তারেকের পর্যন্ত একটা চাকরি আজো হলোনা।ওতো ঢাকাতেই বিবিএ,এমবিএ করেছে।ওর নাকি একটা ভাই আছে মনোয়ার না কি নাম যেন সরকারীদলীয় নেতা।তো তাকে একদিন আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম
তোরতো বলে মেলা বড়বড় আত্মীয়?
-এলা কি কোরিবোতে!চাকরি না দিলে কি হুমাক মারিবো?
এনুংগোতো হবা পারে হুমার চাকরি দিবার ক্ষমতা নাই?
-বালের কাথা কোহিন্না।অনা রাব্বীক চাকরি দিল।
তে ওক পুচিছিলো কেংকো কি?
-হম!পুচিছিনু পথমে কহেনা পরে হাতখান ধরে কোহিল দোস্ত আগত কহ কাহাকো কোহিবানিহিস!
পরে ভূত বাকিল!তামানে কোহিল।
ও।তে টাকা পাইল কুন্ঠে?
-কুন্ঠে আরহ! জমি বেচায় আর নিজে বেচে।
নিজে বেচে মানে?
-বেটা! ডিমেন নিছে ডিমেন!নাহিলে ওর মত চেংড়া ঐডা কালা চেংড়িক বিহা করে?
এ বাদ দেদি এইলা কাথা।ভালো লাগেনা।
উপর দিয়ে একটা বিমান উড়ে যায়।নিত্যদিনের মত সংসদ ভবনের সামনে কপোত-কপোতি,শিশু-কিশোর,লালনীল বেলুন,চায়নিজ খেলনা,আইসক্রিম,বাদাম,কফি,হিজরা, পেঁয়ারা মিলে একটা মেলা মেলা ভাব নেয়।
আমাদের মুখে শুধু কোন কথা নাই।এই সমাজের কেউ নই আমরা।গল্প জমাতে ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ আমি।কিন্তু আমি সেদিন বোবা হয়ে গেছিলাম।এত নীরবতা সেদিন ক্রন্দনকে স্পর্শ করেছিল।বিদায় না বলেই সে “গেনুরে” বলে চলে যায়।
আমি আরো কিছুক্ষণ” অচিন বৃক্ষ ” এর কাছে বসে থাকি।এ গাছ হাজার বছর বাঁচে।দারিদ্রপীড়িত কুড়িগ্রাম থেকে এনে এই ব্যস্ত নগরীর প্রাণকেন্দ্রে রোপন করে যেন গাছটির সহিত তামাশা করা হয়েছে।তামাশার শহর তোমাগোর।
****************
বড়লোক বন্ধু ও আত্মীয় স্বজনদের সাথে বড়জোর আড্ডা মারা যায় কিন্তু জীবনযাপন করা যায়না।বিষয়টা বউটাকে কেমনে বলি!সবাইকে বোঝাতে হবে সবকিছু ঠিক আছে!স্বাভাবিক আছে।আর এগুলো গোপন রাখাই শ্রেয় কেননা একদিকে কোন লাভ যেমন হয়না অপরদিকে পারসোনালিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সব সময় বলতে হবে “আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি”।
এজন্য নিজেকে একটু গুটিয়ে নিছি।সচরাচর বন্ধুদের মুখোমুখি হই না।সুলতানা এগুলো বোঝার কথাও না।সুলতানা হলো আমার মেয়ের মা।চার বছর পার হতে চলল একটা শাড়ি সে কিনতে চায় বসুন্ধরা থেকে।ইনিয়েবিনিয়ে তাকে বিরত রেখেছি।বাড়ি গিয়ে আব্দুল্লার ন্যায্যমূল্য বস্ত্রালয় থেকে ঈদের খুশি করাই।কি করবো মার্কেটিংয়ের লোক আমি।যুগান্তর আর ডিশ কানেকশন বাদ দিছি।খামাখা ফালতু বিল দিয়ে অপচয় করার দরকার আছে!বরং ব্রডব্যান্ড নেই সব পাওয়া যাবে আর তুমি আমি ভিডিও কলে কথা বলবো, কি বলো?দেখি কাজ হয়।কাজ হতেই হবে।মার্কেটিং! মার্কেটিং!
কিন্তু ওর বান্ধবী সুমাইয়ারা সাভারে না কই যেন বদলি হয়ে আসে।সুমাইয়ার হাসবেন্ড সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।এতদিন সে ঢাকার গল্প করতো।এই শোননা আজ না আমরা হেব্বি মজা করলাম বসুন্ধরা, রাইফেলস স্কয়ার,বনানী,গুলশান, ধানমন্ডি ঘুরে ঘুরে একটা শাড়ি চয়েস করলাম।তুই তো জানিস ওতো একটু খুতখুতে।কি আর বলবো।তারপর বুফেতে খাইলাম!!!কি যে মজা তুই চলে আয় না।খুব মজা হবে।
তারা যখন সত্যি সত্যি চলে এলো তখন ও মন খারাপ করে বসে আছে।
*****************************0
পঙ্গু! পঙ্গু! বলে ডাকতে থাকলে আমি দরজার কাছাকাছি আসার চেষ্টা করি।তারপর শ্যামলীতে নেমে যাই।এখানে রিক্সায় চড়া যাবে না।রিক্সাওলারা ভাড়াও চায় বেশি। দামদর করে উঠলেও পরে দেখা যায় সব উত্তরবঙ্গের।পরে দেখা যাবে পাঁচদশ টাকা বেশিই দেওয়া হয়ে যায়।এরকম একবার পরিচয় হয়েছিল এক বৃদ্ধের সাথে বাড়ি ঠাকুরগাঁ,গ্রামের নাম শোলমারি না বোয়ালমারি যেন মনে নাই।নাম শবরাতু সবাই ভুতু বলে ডাকে।নাম ভুতু হলে কি হবে নূরানি চেহারাতে শুভ্র দাড়ি মোবারক দেখে মেনে নেওয়া কঠিন লোকটি রিক্সা চালক।তো ভুতু চাচা বলে যায়-বুঝিলো বাউ, বেটাবেটির বিহা হইলে পর হয় যায়।বউমার টেরাটেরা কাথা আর সইহ্য হইলনি।যাউক বেটা রিজিক!রিজিক!ঢাকাত রিজিক রোহিলে বেটাবোহুর কি দোষ কহদি?চোলে অসনু ঢাকাত!”লোকটা এতো ধীরে চালাচ্ছ যে এরচেয়ে হেটে গেলে নিশ্চিত আগে যাওয়া যেত।আমি জোরে চালানোর কথা চাইলেও বলতে পারিনি।ঢাকাতে আমি রিক্সা এড়িয়ে গিয়ে লেগুনাতে উঠি আর উঠলেও জিগাইনা চাচা বাড়ি কই?
আমি হিসাব করে দেখলাম লেগুনাটিতে ১৮/১৯ জন যাত্রী।পাশের প্রাইভেটে ২জন।অবশ্য এতে আমি অবা হইনা,কেননা ওরা সর্বদা গুম হওয়ার আতঙ্কে থাকে।লেগুনাটিতে রোহিঙ্গা আর ধর্ষণ নিয়ে তিনজন ছাত্র কী জানি আলাপ করে।ছাত্ররা চাঁদা তুলছে,এসব।আমি সামনেই নামবো বলে লেগুনার পাদানিতেই ভেতরের রড ধরে দাঁড়িয়ে থাকি।এতে করে বাতাস লাগে শরীরটা ঠান্ডাও হয়।নামবো বললে ছোট বাচ্চাটি লেগুনার গায়ে বারি মারলে আমাকে নামিয়ে দেয়।
*************************
চাকুরিটা চলে গেলেও আমি দুদিন ধরে অফিস করে যাচ্ছি।আসলে অফিস করছিনা।বউটাকে কিভাবে বলবো বুঝতেছিলাম না।বাবা স্ট্রোক ও হার্ট এ্যটাকের রোগী ডা:খালেকুজ্জামান একটি রিং বসায় দিছিল।ওভাবেই আছে।কাকে কিভাবে বলি বুঝতেছিলাম না।
রাতে ঘুম ধরতেছিল না।বুকের বামপাশে একটা ব্যাথা অনুভব করছিলাম।কেমনে কি হলো আর কি হবে এসব ভেবে কোনভাবেই ঘুম আসছিল না।চুপিচুপি উঠে দুইটা Norry খেয়ে নিলাম।বাসায় ছিল।সুলতানা যখন কি বিষয়ে যখন খুব আনন্দিত।হেসে হেসে কথা বলছিল, আমি বলেছিলাম কোন প্রসঙ্গ ছাড়াই হঠাৎ করে “চাকরিটা চলে গেছে”।সে প্রথমে ইয়ার্কি মনে করছিল আর আমি সেটাই চাচ্ছিলাম।
সে বলল যাহ!
আমি বললাম হুম
সে বলল ঠিকেই
আমি বললাম হুম
সে বলল “এলা কী হবে জানু?”
****************************
আমি হাটছি বাড়ির অভিমুখে।চাকরিটা গেল কুরবানি ঈদের ঠিক আগে।সামর্থ্য থাকলেও কুরবানি দেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবেনা ভেবে বিরত রইলাম।সকলে একে একে বাড়ি গেল দৌলত ভাই নতুন বাচ্চার কারণে গেলনা।সাবেক কলিগরা কেউ কেউ ফোন করে।কেউ না করলেও চলতো।অবাক হয়েছি উত্তরবঙ্গের একমাত্র কলিগ সে আজ পর্যন্ত ফোন করলো না দেখে।অথচ গত কয়েক বছর কুরবানির গোস্তোও দিয়েছিল।যতই কুরবানি এগিয়ে আসতে লাগলো ঢাকা শহর যেন মনে হতে লাগলো কোন গ্রাম।খড়,কাঠালপাতা,চাটাই,ভুসি,গোবর,গরু,ছাগল মিলে একাকার।শহরের বাচ্চারা বেশ আনন্দ করে গরু,ছাগল দেখছে।
ঈদের নামাজ পড়ে ফিরে আসতে আসতে অনেক কুরবানি দেখলাম।বাসায় এসে বউ দেখি সব রান্না করে রেডি।গোস্ত ভাত বেশ মজা করেই খাওয়া হলো।আজ পনের বিশ দিন হতে চলল।ফ্ল্যাট আর শহর ধীরে ধীরে জমে উঠতে শুরু করলো কিন্তু আজো কুরবানির গোস্ত খাওয়া হলো না।আমার মা শুধু লোক খু্ঁজে বেড়ায়,একে ধরে ওকে ধরে “বাউরে কুনদিন ঢাকা যাবো? মোর ছুয়াডার তানে কুনিক গোস্ত নিগাইস”।আমার মাকে আমি আশ্বস্ত করি,ওমুকে গোস্ত দিছে,তমুকে দিছে, ভাইয়ে দিছে,বাড়িওয়ালা দিছে,নিচতলার আপা দিছে,উপরতলার ভাবি দিছে ফ্রিজে অনেক গোস্ত।রাখার জায়গা নাই।
ভাগ্যিস দশ/বারোদিন আগে তিন কেজি গোস্ত কিনে এনে রেখেছিলাম।
বি:দ্র: এ বছরও বউটাকে শাড়ি কিনে দেওয়া গেল না। পনের হাজার টাকার দেনাও অপরিশোধিত থাকলো।
**********************
বাড়ির কাছাকাছি এলে মেডিসিন প্লাস ফার্মেসি থেকে নোয়াখাইল্লা মোমিন “ও বড্ডাই” বলে ডেকে গল্প শুরু করে দিলে সহসা উঠতে দিবেনা।ওদিককার লোক ব্যবসা বুঝে।সাহসী আর ঝোপ বুঝে কোপ মারতে জানে।মনে হয় জান দিবে মাগার স্বার্থে আঘাত আসলে এক মিনিট লাগবে না পোল্টি নিতে।ইদানিং ভাবিকেও দেখছি হিজাব পরে দোকানদারি করতে।
আজ আমার ওতো সময় নাই।মেয়েটা পাপা-পাপা,বাবা-বাবা বলতেছে।এখনো মা কিংবা আম্মা বলছে না দেখে সুলতানা রাগও করে।বলে -“হুম!বাপ দুলালী হইচে।”
মেয়েটার আমার আইসক্রিম খুব পছন্দ।ফ্রিজের আস্ত বরফ দিলেও মুখে নিয়ে নেয় কোনভাবেই বের করানো যায় না।
আমি মেয়েটার জন্য বাটি আইসক্রিম কিনি গফুর ভাইর দোকান থেকে।তার কিছু বকেয়াও শোধ করি।
টপ ফ্লোরে উঠতে দিনশেষে অনেক কষ্ট হয় কিন্তু আজ কোন কষ্ট তো হচ্ছেই না বরং এক কিসের সম্মোহনে পটাপট সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছি।
আমি যখন ছয় তলায় পৌঁছাবো তখন মেয়েটা হয়তো ইউটিউবে কার্টুন দেখবে।আমাকে দেখেই একঝলক হাসি ছড়িয়ে নাচতে নাচতে তর্জনী আঙুল দিয়ে পিসিটার দিকে তার খুশির কারণ বলতে চাইবে যেন।আমি অফিসের ব্যাগ কোন রকমে রেখে মেয়েটাকে শুন্যে ছুড়ে মারবো।তখন সত্যি সত্যি নিজেকে বিল গেটস মনে হবে।কোন ক্ষেদ থাকবে না।প্রমোশন না পাওয়ার আক্ষেপ থাকবে না।আমি তখন বলবো
আলহামদুলিল্লাহ! আলহামদুলিল্লাহ!

Facebook Comments

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here