একুশের ঋণ

0
260

একুশের ঋণ

– রেশমা বেগম

ফাল্গুনের রক্ত পলাশের রাঙা প্রহরে
একুশ তুমি প্রতিবারই আসো
স্বপ্রতাপে গৌরব গাঁথা ঐতিহ্য লয়ে,

আলতো স্পর্শে শিমুলের রঙে
রাঙিয়ে দাও জাতির হৃদয়-কাননের
সন্ধ্যা মালতী, মাধবীলতাকে।

চিত্ত অধীরতায় ব্যাকুল মোরা করি
মাতৃভাষার বন্দনা, পুষ্পস্তবকের
মহা-অর্ঘের জ্বলজ্বলে তাঁরায় ভেসে
বেড়াই সারাবেলা।

একুশ বলো এবার তোমার মনে কি কথা
ছিল মোদের অজানা-
বলো একুশ! নয় কোন সংকোচ-লজ্জা
গোপনীয়তার আচ্ছাদন;

মাতৃভাষা তুমি মিশেছো আত্মার সুনিবিড়
পর্বে মর্মে-মর্মে শুভ্র স্নিগ্ধ রুপোর-
কাঠির জাদুর মোহে-

তোমায় বক্ষে ধারণ করি বলে আজ
গাই বাংলায় গান, লিখি বাংলার
শব্দের সম্ভার।

এতক্ষণ বন্দনা করলাম মাতৃ-সম মায়ের
ভাষার গুনো কীর্তন গান!

একুশ এবার চলো তোমার আমার
অসম্পাদিত আলাপচারিতা গুলো
করি বিশ্লেষণ, সম্পাদন।

কারণ জবাবদিহিতার পালা রয়েছে সদা
সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দণ্ডায়মান!

রক্তের ঋণে ঋণী হয়েছি সেই বায়ান্নর
ফাল্গুনের টকটকে রক্তিম আভায়
রঞ্জিত
মহা ত্যাগের দিন লিপিকা থেকে।

আজ মোরা নই অবলা জাতি করতে হবে
মীমাংসা অসংলগ্ন কার্যবিধি।

কাঁধে ঋণ বহন করা নয় আর সম্ভব,
মাতৃভাষার মর্যাদা-মূল্যায়নে
রয়েছে কি কোনো ফাঁকি!

বুকের ধন মাতৃভাষার সনদ প্রাপ্তি করেছে
মহীয়ান-গৌরবান্বিত জাতিকে
বিশ্ব মাতৃভাষার মসনদে।

একুশের ঋণ || রেশমা বেগম 

রেশমা বেগম

 

 

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here