স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ সম্পর্কিত সতর্কবার্তা

বিয়ের আগে রক্তপরীক্ষা করুন

0
1858

স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ সম্পর্কিত সতর্কবার্তা

বিয়ের আগে পরিবার পরিজন, আত্মীয় স্বজন সংক্রান্ত যাবতীয় খোঁজ খবর নিয়ে থাকি আমরা, কিন্তু ভুলে যাই সব চেয়ে প্রয়োজনীয় বর-কনের রক্তের গ্রুপ সংক্রান্ত ব্যাপারটি ! আসুন জেনে নেয়া যাক এই বিষয়ে জরুরী কিছু তথ্যঃ

স্বামী-স্ত্রীর ব্লাড গ্রুপ কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার আগে প্রথমে আমাদের ব্লাড গ্রুপ সম্পর্কে কিছু কথা জানা দরকার।

প্রধানত ব্লাড গ্রুপ কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। একটা হল ABO system (A, B, AB & O), আরেকটা হল Rh factor ; Rh positive(+ve) & Rh negative(-ve). অর্থ্যাৎ Rh factor ঠিক করবে ব্লাড গ্রুপ পজেটিভ হবে না নেগেটিভ হবে। তাহলে ব্লাড গ্রুপগুলো হলঃ A+ve, A-ve, B+ve, B-ve, AB+ve, AB-ve, O+ve, O-ve.

এই হলো রক্তের ৮ টি গ্রুপ। আর ব্যতিক্রমী বোম্বে ব্লাড গ্রুপ খুবই বিরল একটি রক্তের গ্রুপ।

 যদি অন্য গ্রুপের রক্ত কারো শরীরে দেওয়া হয় তাহলে কী হবে?

যখন কোনো Rh নেগেটিভ গ্রুপের ব্যক্তিকে Rh পজেটিভ গ্রুপের ব্লাড দেয়া হয় তখন প্রথমবার সাধারণত কিছু হবে না। কিন্তু এর বিরুদ্ধে রোগীর শরীরে এন্টিবডি তৈরী হবে যার ফলে যদি কখনো রোগী আবার পজেটিভ ব্লাড নেয় তাহলে তার ব্লাড cell গুলো ভেঙ্গে যাবে, এর কারণে অনেক সমস্যা হবে। যেমন জ্বর,কিডনি ফেইলিউর, হঠাৎ মৃত্যু ইত্যাদি। এই সমস্যাকে মেডিকেল টার্ম এ বলা হয় ABO incompatibility.

স্বামী-স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ কী রকম হওয়া দরকার?

স্বামীর ব্লাড গ্রুপ যদি পজেটিভ হয় তাহলে স্ত্রীর ব্লাড গ্রুপও পজেটিভ হতে হবে। আর যদি স্বামীর ব্লাড গ্রুপ নেগেটিভ হয় তাহলে স্ত্রীর ব্লাড গ্রুপ পজেটিভ বা নেগেটিভ যে কোনো একটি হলেই হবে। তবে স্বামীর ব্লাড গ্রুপ যদি পজেটিভ হয় তাহলে কোনোভাবেই স্ত্রীর ব্লাড গ্রুপ নেগেটিভ হওয়া চলবে না। এক্ষেত্রে যদি স্ত্রীর ব্লাড গ্রুপ নেগেটিভ হয় তাহলে তার স্বামীর ব্লাড গ্রুপও নেগেটিভ হতে হবে।

যদি স্বামীর ব্লাড গ্রুপ পজেটিভ হয় আর স্ত্রীর ব্লাড গ্রুপ নেগেটিভ হয় তাহলে কী সমস্যা হবে?

স্ত্রী যদি নেগেটিভ হয় আর স্বামী যদি পজিটিভ হয় তাহলে ‘লিথাল জিন’ বা ‘মারণ জিন’ নামে একটি জিন তৈরি হয় যা পরবর্তীতে জাইগোট তৈরিতে বাঁধা দেয় বা জাইগোট মেরে ফেলে। সে ক্ষেত্রে মৃত বাচ্চার জন্ম হয়। যদি বাচ্চা বেঁঁচে থাকেও, অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।  যদি স্বামীর ব্লাড গ্রুপ পজেটিভ হয় তাহলে সাধারণত বাচ্চার ব্লাড গ্রুপও পজেটিভ হবে। যখন কোনো নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপের মা পজেটিভ Fetus(ভ্রুণ) ধারণ করে তখন সাধারণত প্রথম বাচ্চার ক্ষেত্রে অনেক সময় কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু ডেলিভারির সময় পজেটিভ Fetus এর ব্লাড, placental barrier ভেদ করে এবং placental displacement এর সময় মায়ের শরীরে প্রবেশ করবে। মায়ের শরীরে ডেলিভারির সময় যে ব্লাড প্রবেশ করবে, তা ডেলিভারি হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই মায়ের শরীরে Rh এন্টিবডি তৈরী করবে। যখন মা দ্বিতীয় সন্তান বহন করবে, তখন যদি তার fetus এর ব্লাড গ্রুপ পুনরায় পজেটিভ হয়।
তাহলে মায়ের শরীরে আগে যেই Rh এন্টিবডি তৈরী হয়েছিলো সেটা placental barrier ভেদ করে বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করবে। আর যখন fetus এর শরীরে Rh
antibody ঢুকবে তখন fetal এর RBC এর সাথে agglutination হবে, যার ফলে RBC ভেঙ্গে যাবে। একে মেডিকেল টার্ম এ “Rh incompatibility” বলে।

মোটা দাগে ৪টি পয়েন্ট মনে রাখুন,
১.স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই রক্তের গ্রুপ পজিটিভ  হলে সমস্যা নাই।

২. স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ হলে এক্ষেত্রেও  সমস্যা নাই।

৩. স্বামীর রক্ত নেগেটিভ গ্রুপ, স্ত্রীর রক্ত পজিটিভ হলেও সমস্যা নাই।

৪. স্বামীর রক্ত পজিটিভ আর স্ত্রীর নেগেটিভ গ্রুপ হলে সমস্যা হওয়ার সম্ভবনা প্রকট। বর এর রক্তের গ্রুপ পজিটিভ হলে কনের রক্তের গ্রুপ কোনভাবেই নেগেটিভ হওয়া চলবে না। অর্থাৎ কনের রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ হলে বরের রক্তের গ্রুপও নেগেটিভ হওয়া বাঞ্ছনীয়।

www.roktobondhu.com

বিস্তারিত জানতে ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হোন রক্তবন্ধু

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here