রোগ প্রতিরোধে শাক-সবজি

0
754

রোগ প্রতিরোধে শাক-সবজির ভূমিকা

শাক-সবজির বড় একটি ভূমিক হলো এতে ভিটামিন ও মিনারেলস এ ভরপুর । এখানে পটাশিয়াম, খাদ্য আঁশ ফলেট (ফলিক এসিড), ভিটামিন এ, ভিটামিন সি বিদ্যমান। প্রতিদিন একটি নয় বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজি খেতে হবে।
বেশিরভাগ শাক-সবজির মধ্যে খুব কম পরিমান ক্যালরি এবং লো-ফ্যাট থাকায় এটি স-ুস্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারি। এছাড়াও বিভিন্ন রংয়ের গাঢ় সবুজ শাক-সবজির মধ্যে এন্টিঅক্সিডেন্ট, বিটা ক্যারোটিন, লাইকোপেন, লুটেইন, প্রভৃতি পেয়ে থাকি এবং এতে ক্যান্সার ও বিভিন্ন রোগ হতে সুস্থ্য থাকি।
শাক-সবজির মধ্যে লো-সোডিয়াম থাকায় এতে আমাদের শরীরে রক্তচাপ ও কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রনে রাখে।
শাক-সবজিতে বেশ ভালো পরিমানে ফাইবার থাকায় এর ফলে পাকস্থলীর, কোলন ক্যান্সার ও বেস্ট ক্যান্সার হতে রক্ষা পেতে পারি।
আমাদের হৃদরোগীর জন্য ডাক্তার যে মেডিসিন দেন তা হল নাইট্রেট শ্রেনীর ঔষধ এনজিনা। মুখে স্প্রে করে বা জিহ্বার নিচে দেয়া হয়। সবুজ শাক-সবজি যেমন পালংশাক, করলা, লেটুস, বাঁধাকপি, ফুলকপিতে প্রচুর পরিমানে নাইট্রেট থাকে। গবেষকদের রিসার্চ করে দেখেছেন যে যারা যত বেশি শাকসবজি গ্রহন করেছেন তারা তত কম হৃদরোগে ঝুঁকিতে ছিল।

কিভাবে বুঝবেন শাকসবজির ঘাটতি হয়েছেঃ
ক্লান্তিবোধ বাড়বে: সবুজ শাক-সবজি আমাদের শরীরে ফলিক  এসিড যোগায় যা ক্লান্তিবোধ থেকে রক্ষা করে।

মাসলক্রাম্প দেখা দেয়: শাকসবজি কম খেলে পটাশিয়ামের অভাব দেখা দেয়। তার ফলেই মাসল ক্রাম্প দেখা দেয় ।

কোষ্ঠকাঠিন্য হয়: শাকসবজিতে প্রচুর ফাইবার আছে। তাই শাকসবজি কম খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়।

সহজে ভুলে যাওয়া: শাকসবজি না খাওয়ার ফলে ব্রেইনের পুষ্টিও ঠিকমত পায় না। এর ফলে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা: সবুজ শাকসবজির মধ্যে পটাশিয়াম আছে ভালো। কারও পটাশিয়ামের ঘাটতি হলে কিডনিগুলি মূত্রের মাধ্যমে সোডিয়াম থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা করবে না। ফলে রক্তচাপ বেড়ে যাবে।

শাকসবজি খাওয়ার নিয়মঃ

  • শাকসবজি বড় টুকরো করে কেটে অল্প পানি দিয়ে সিদ্ধ করে সালাদ আকারে পুদিনা পাতা, ধনেপাতা, কাঁচা মরিচ, অলিভ অয়েল দিয়ে  সালাদ করেও খেতে পারেন।
  • যেসব বাচ্চারা শাকসবজি খেতে চায় না মায়েরা শাকসবজির বড়া, সবজির চপ, সবজি রোল,সবজির অমলেট, সবজির খিচুড়ি, সবজির চাপরি,সবজির হালুয়া(যেমন:মিষ্টিকুমড়া হালুয়া, পেপের হালুয়া ) সবজির মাছের কারি ইত্যাদি করে খাওয়াতে পারেন।
  • যারা ওজন কমাতে চান এবং চিবিয়ে খেতে পারেন না অসুস্থ্যতার জন্য তারা স্যুপ করে খেতে পারেন।
  • শাক-সবজি কখনই বেশি সময় ধরে রান্না করা উচিত নয়। এতে খাবারের জমিন ও রং যেমন নষ্ট হয় তেমনি পুষ্টিগুন ও নষ্ট হয়।
    শাক-সবজি পরিমান মত পানিতে রান্না করতে হবে এবং সিদ্ধ হয়ে গেলেই নামিয়ে ফেলতে হবে
  • শাকসবজির সাথে অবশ্যই ভিটামিন সি মিলিয়ে খাবেন । যেমন: লেবু, কাঁচা মরিচ ইত্যাদি । কারন শাকসবজির মধ্যে যে ভিটামিনগুলো আছে তাতে শরীরে সহজেই শোষণ হবে।
  • শাক-সবজি সিদ্ধ করা পানি কখনই ফেলা উচিত নয়। এটি সুপ বা ঝোল হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
  • খাদ্য তালিকায় কম ক্যালরিযুক্ত সবজি বেছে নেয়াই শ্রেয়। যেমনঃ চালকুমড়া, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, শসা, টমেটো, পটল, করলা, বেগুন, শালগম ইত্যাদি ।

লেখকঃ পুষ্টিবিদ লিনা আকতার

পুষ্টিবিদ লিনা আক্তার

বি.এস.সি (অনার্স), এম.এস.সি (ফুড এন্ড নিউট্রিশন), ঢা.বি
জিডিএম এবং যক্ষা ট্রেনিংপ্রাপ্ত (বারডেম)
মোবাইলঃ 01859209083

পুষ্টি সেবা সমূহঃ ডায়াবেটিক, ওজন কমানো, ওজন বাড়ানো, হৃদরোগ, কিডনি রোগ, ফ্যাটিলিভার, রক্তস্বল্পতা, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড, আইবিএস,  গ্যাস্ট্রিক, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ,  ইউরিক এসিড কমানো, গর্ভবতী মা।ও শিশুর ডায়েট সহ স্বাস্থ্য সমস্যার  জন্য পুষ্টি বিষয়ক পরামর্শ দেয়া হয়।

নুরুল ইসলাম চেয়ারম্যান সুপার মার্কেট, নীচতলা
মাওনা বাজার রোড, মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর।
সিরিয়ালের জন্য 01712273418

Facebook Comments