রোহিঙ্গা সমস্যাঃ সংকট নয়, গণহত্যা

0
161

রোহিঙ্গা সমস্যাঃ সংকট নয়, গণহত্যা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবিক বিপর্যয়কে বিশ্বের সর্বাধিক জরুরী শরণার্থী সংকট: রোহিঙ্গা সংকট হিসাবে বর্ণনা করা হয় । ব্রিটিশ উপনিবেশিক আমলের নীতিতে ফিরে গেলে অর্থাৎ যখন বার্মা ছিল তখন জাতিগত দ্বন্দ্বের মূল বিষয়গুলি কী ছিল? মুসলিম রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্বের অধিকারকে তাদের ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল যা জাতিগত অধিকার লঙ্ঘনের ভিত্তি রচনা করেছিল। ১৩৫টি জাতীয় নৃগোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং কিছু কিছু অধিকার মঞ্জুর করার পরেও ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের অধীনে রোহিঙ্গাকে কার্যকরভাবে রাষ্ট্রবিহীন করার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা এখন বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্রহীন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় । গত কয়েক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের উপরে অমানবিক নিপীড়ন ও নির্যাতন চলছিল, যার ধারাবাহিকতায় আগস্ট ২০১৭ সালে এ.আর এস.এ (আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি) এবং মিয়ানমারের সুরক্ষা বাহিনীর মধ্যে সহিংস সংঘর্ষের ফলে, ৭০০,০০০ এরও বেশি রোহিঙ্গা নাগরিককে বাংলাদেশে নির্বাসনে আসতে বাধ্য করা হয়। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা অভূতপূর্ব মাত্রায় চালিত হয়েছে যা সবচেয়ে পুরাতন সাহায্যকারী কর্মী ও সাংবাদিকদেরও হতবাক করেছে। রোহিঙ্গা মহিলাদের নিয়মিতভাবে গ্রামে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং পুরুষদের সংক্ষিপ্তভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের হাই কমিশনার প্রিন্স জেইদ রাদ আল-হুসেন মিয়ানমারের পরিস্থিতিকে “জাতিগত নির্মূলকরণের একটি পাঠ্যপুস্তক” বলে অভিহিত করেছেন। যদিও কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা রোহিঙ্গাদের সহায়তা প্রদান করার জন্য চেষ্টা চালায় কিন্তু মায়ানমার সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রিত মনভাবের কারণে সে প্রচেষ্টা অনেকটা সীমিত হয়ে আসে বা সীমাবদ্ধতার বেড়াজলে আটকে যায়। এমনকি বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীগুলিও আদর্শগত কারণে ক্ষতিগ্রস্থ রোহিঙ্গাদের সহায়তা বা সাহায্য করার বেপারে বাঁধা দেয় বা মুসলমানদের পৃষ্ঠপোষকতা বা সাহায্য করার জন্য করার জন্য কোন রকম সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের মতে – নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চি-র নেতৃত্বে মায়ানমারের সরকার পরিচালিত হওয়া সত্ত্বেও ২০১৭ মায়ানমার অত্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্থ সরকার হিসাবে বিবেচিত হয় অর্থাৎ দুর্নীতির সূচকে ১৩০-এ স্থান ছিল । এই পরিসংখ্যানটির অর্থ হল মিয়ানমারের অভ্যন্তরে যে কোনও আন্তর্জাতিক সহায়তা দুর্নীতির কারণে সফলতার মুখ দেখতে পায় না । এই সংস্করণে ফেয়ার অবজারভারের এক সাক্ষাত্কারে লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল স্টেট ক্রাইম ইনিশিয়েটিভের (আইএসসিআই) গবেষক ড. থমাস ম্যাকম্যানাসের সাথে কথা বলেছেন, চিফ এডিটর স্টেট ক্রাইম জার্নাল , তিনি ড. থমাস ম্যাকম্যানাসের সাথে এই সমস্যার লিগ্যাল ও উপযুক্ত বিষয়গুলি বা আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে তুলি ধরার মতো আইনি দিকগুলি এবং উদ্বেগের বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলেছেন। ড. থমাস ম্যাকম্যানাস বলেছেন যে, “জাতিগত নির্মূলের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধ আর নেই” । তাহলে এই  “রোহিঙ্গা” শব্দটি ব্যবহার করা হবে কেন? তার একটি কারণ হল গণহত্যার সম্ভাব্য মামলাগুলি তদন্তের আইনী বাধ্যবাধকতা এড়ানো। যুক্তরাজ্য সরকারকে ২০১৫ সালে রোহিঙ্গাদের আসন্ন নির্মূলের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে করা হয়ে ছিল কিন্তু বস্তুত তারা কিছুই করেনি। ১৯৪৮ সালের গণহত্যা চুক্তির অনুযায়ী একমাত্র আদালতই পারে গণহত্যা বিষয়ে একটি শক্ত অবস্থান নিতে । অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, একটি আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যার জন্য একটি মামলা সুরক্ষিত করতে সাধারণতঃ কয়েক দশক লেগে যায়।  ড. থমাস ম্যাকম্যানাস তিনি এটাও বলেছেন ময়ানমারের কিছু কিছু সুশীল সমাজ রোহিঙ্গাকে দ্রুত তাড়ানোর জন্য, তারা তাদের সরকারকে সাহায্য করেছে , এমনকি “রোহিঙ্গা” শব্দটি নিষিদ্ধ করেছে। বার্মার অভ্যন্তরীণ নাগরিক সমাজকে এমন সব প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত যা জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সহযোগিতা এবং ভুল বুঝাবুঝির কমাবার জন্য উৎসাহ দেয়। উদাহরণস্বরূপ,এমন প্রকল্পগ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে যেখানে রাখাইনের বৌদ্ধ এবং মুসলিম জনসংখ্যা উন্নয়ন প্রকল্প এবং নতুন ব্যবসায় একসাথে কাজ করবে । তবে বর্তমানে সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারের অধীনে দমন, নির্যাতন ও গণহত্যার বন্ধ করা একিবাড়েই অসম্ভব।একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে রোহিঙ্গার অসহায়ত্ব দেখে আমার অত্যন্ত কষ্ট হয়, বিশ্ব বা জাতিসংঘকে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে আপনাদের ভূমিকা কী ? আপনারা কী শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবেন আর হাসবেন বিশ্ববাসী তোমরা দেখো মানবতা কীভাবে ভুলণ্ঠিত হচ্ছে। আমাদের ক্ষমতা আছে কিন্তু আমরা কিছু করব না কারণ তোমরা “রোহিঙ্গা“ । কখনো কখনো মনে হয় বিশ্ববাসী বা জাতিসংঘের বিবেক আছে বলে মনে হয় না। ও আই সি, মৃত প্রায় সার্ক বা দক্ষিণ -পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি আপনারা একটু সোচ্চার হউন, বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত করুন, এতে হয়তো রোহিঙ্গাদের উপর দমন, নির্যাতন, ধর্ষণ ও গণহত্যা বন্ধ হবে না কিন্তু তাদের আত্ম্যা হয়তো কিছুটা শান্তি পাবে । আমি বিশ্ব নেতাদের অনুরোধ করছি, এই রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। কারণ আপনারা যুদ্ধের অস্ত্র কেনার জন্য কয়েক মিলিয়ন ডলার হরহামেশায় ব্যয় করছেন , আর রোহিঙ্গা জনগণকে সহায়তা করতে একটুও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না হায়রে মানবতা ! আবারও আমি সকল সভ্য মানুষকে অনুরোধ জানাতে চাই তথা দক্ষিণ -পূর্ব এশিয়ার বড় দেশগুলিকে বলতে চাই, আসুন আঞ্চলিক ব্যবসায়িক স্বার্থকে পরিহার করে মানবতার কথা চিন্তা করে , রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা বন্ধ করতে, রোহিঙ্গা জনগণকে বাঁচাতে, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে চিন্তা করি। জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে – পৃথিবীটাকে একটি সুস্থ, সুন্দর, শান্তিময় ও বাস যোগ্য ভুবনে পরিনত করি।

লেখকঃ 
কৃষিবিদ মোঃ আব্বাস আলী 
ডিরেক্টর- এক্সপ্লোর বিজনেস লিমিটেড
Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here