স্যার এফ আর খান, একজন অনবদ্য প্রকৌশলী

0
293

আকাশ চুম্বী Tube আকৃতি বিল্ডিং এর সৌন্দর্য এবং অভিনবতা দেখে আমরা যারা মুগ্ধ ও অবাক হয়ে যাই তাদের জানা দরকার একজন বাংলাদেশীর চিন্তা , মেধা আজকের বিশ্বকে এতো দ্রুত আকাশ ছুয়ে দেবার সাহস দেখিয়েছিলো। উনি শুধু সৌন্দর্যই নিশ্চিত করেননি, স্টীলের ব্যবহার কমিয়ে অনেক বেশী ইকোনোমিকাল করেছেন পূরো ব্যাপারটাকে। তার কয়েকটা বিশেষ স্থাপনার নাম উল্লেখ করা যায়। sears tower( বর্তমানে wills tower,প্রায় ২৫ বছর বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন হয়ে ছিলো, এখনো আমেরিকার সর্বোচ্চ ভবন),john hancock centre , জেদ্দা বিমানবন্দর (যা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিমানবন্দর) ইত্যাদি।

২০০৯ সাল। কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য রাখেন এক কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন প্রেসিডেন্ট, বারাক ওবামা। “আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি এক মহান বাঙ্গালী প্রকৌশলীকে, তিনি আমাদের সর্ববৃহৎ আকাশচুম্বী ভবনটির নকশা করেছেন…” ।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ স্থাপনা Wills Tower এ তাঁর জন্য ভাস্কর্য নির্মান করা হয়েছে।

-১৯৬৯ সাল। সীয়ারস এন্ড কোং চিন্তা করলো তাদের ৩ লাখ ৫০ হাজার কর্মচারীকে এক কর্মস্থলে এনে রাখা যায় কি ভাবে। আকাশ চুম্বী এক বিল্ডিং গড়ার চিন্তা করলেন তারা। নকশার দায়িত্ব দেওয়া হলো এক বাঙ্গালী প্রকৌশলীকে।

-১৯৭১ সাল। মার্কিন সিনেটে প্রথম এক বাঙ্গালী তার কষ্টের কথা জানাতে এসেছেন। তিনি কাপা গলায় বলছেন “বাংলাদেশের উপর পশ্চিম পাকিস্তানীরা নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়েছে…”

-১৯৭১ সাল। প্রবাসী বাঙ্গালীদের দ্বারে দ্বারে তিনি ছুটছেন। ভালো একটা আর্থিক সম্বল গড়ে তোলার জন্য, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সাহায্যের উদ্দেশ্যে।

-১৯৭২ সাল।স্বাধীনতার পর পরই বাংলাদেশের মুদ্রার অফিসিয়াল নাম কি হবে তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে, বেশীর ভাগেরই মত রুপী। সেই প্রকৌশলী ভিন্ন মত দিলেন। তিনি “টাকা” নামকরনের পক্ষে কঠিন যুক্তি দেখালেন। বঙ্গবন্ধুর সরকার এক কথায় সেই প্রস্তাব মেনে নিলেন।

-১৯৬৫,১৯৬৮,১৯৭০,১৯৭১,১৯৭৯ সাল। পুরকৌশল (Civil Engineering) থেকে বি.এস.সি করেও মোট পাঁচবার বিশ্ব স্থাপত্য শিল্পে সবচেয়ে বেশী অবদানকারী ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত হয়েছেন।

– ১৯৯৯ সাল। অবশেষে তার জন্মভুমি তাকে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করলো, ৪ টাকা মুল্যের একটা ডাকটিকিটও বের হলো। সেইসব দেখার জন্য তিনি এই দেশে আসলেননা । কারন তারো ১৭ বছর আগে তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। হয়তো অভিমান নিয়ে, কষ্ট নিয়ে।

তার ইঞ্জিনিয়ারিং অবদান, জ্ঞান নিয়ে একটা লাইনই যথেষ্ট তা বোঝানোর জন্য। Wikipedia তার সম্বন্ধে বলছে “He has been called Einstein of structural Engineering” তাকে আরো বলা হয় “Father of Tubular designs” এবং ” Master of Engineering”. ।

-“Architectural engineering এবং structrul engineering এর মাঝে এতো চমৎকার সামঞ্জস্য দেখিয়ে এতো চমৎকার নিদর্শন তার মতো আর কোন structural engineer কখনই দেখাতে পারেনি” তাঁর সম্বন্ধে একথা বলেছিলেন বিখ্যাত একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার নাম john zill (senior engineer, som)।

-তার একটা অসাধারন বাণী দিয়ে লেখা শেষ করতে চাই …
“‘প্রযুক্তিবিদের অবশ্যই তার প্রযুক্তির মধ্যে হারিয়ে যাওয়া উচিত নয়, তাকে অবশ্যই জীবনকে তারিফ করতে পারতে হবে। আর জীবন হচ্ছে শিল্প, নাটক, সংগীত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ…মানুষ।”

পুরাকৌশলবিদ (সিভিল ইঞ্জিনিয়ার) স্যার এফ আর খান।

“শুভ জন্মদিন …বিংশ শতকের শ্রেষ্ঠ পুরকৌশলী (Civil Engineer) প্রিয় ফজলুর রহমান খান স্যার।

আমেরিকায় ফজলুর স্যারের নামে সড়ক আছে। সবাই তাঁকে প্রকৌশলী এফ আর খান নামে চেনে।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here