রেলওয়ের চাকুরেদের বৈষম্য

বাংলাদেশ রেলওয়ের সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশল বিভাগের মাঠ পর্যায়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীগন সংকেত ও টেলিযোগাযোগ যন্ত্রাংশের সুষ্ঠু ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণসহ নিরাপদ ও গতিশীল চলাচলের ক্ষেত্রে ট্রেনের বিলম্বতা রোধকল্পে সাংকেতিক বিকলতা নিরসনে নিয়োজিত থাকেন। স্টেশনের ভেতরে ও বাহিরে ৩ কি.মি পর্যন্ত (প্রত্যেক পাশে ১.৫ কি.মি) উন্মুক্ত স্থানে সিগন্যালিং যন্ত্রাংশ ছড়িয়ে আছে, যা ট্রেন গতিশীল ও নিরাপদে চলার জন্য রক্ষণাবেক্ষনই এদের অন্যতম প্রধান কাজ। তবে একজন দুই বা ততোধিক স্টেশনেও এরুপ দায়িত্ব পালন করেন।
এই কর্মচারীগন প্রশাসনিক নির্দেশ মোতাবেক সারা বছরই (২০ দিন সিএল ও ১০ দিন সিসিএল ব্যাতীত) নিরাপদ ট্রেন চলাচলের কাজে নিয়োজিত থাকেন। এসবের দেখাশোনা সম্পূর্ন নিজ দায়িত্বেই করতে হয়। এদের কোন সাপ্তাহিক ছুটি, উৎসব ছুটি বা গেজেটেড সরকারি ছুটি দেওয়া হয় না অথচ এর জন্য কোন আর্থিক বেনিফিটও নেই। রেলওয়ে এ্যাক্ট ১৮৯০ এর সেকশন ৭১ এ টু এইচ তে কর্মঘন্টা নির্ধারনের সুস্পষ্ট বিধি থাকা সত্বেও প্রশাসন এই কর্মচারীদের বিশ্রামহীন যন্ত্রমানবের মত কাজ করিয়ে নিচ্ছে। যা সংবিধানের ১০,১১,২১,৩৪ ধারা লঙ্ঘনের সামিল। ফলে এ কর্মীরা দক্ষ অবস্থায় মধ্যবয়সে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। এরপরও দিনে রাতে ঝড় বৃষ্টি শীত গরমে এরুপ অমানবিক কর্মপদ্ধতিতে যেকোন ত্রুটি হলে সাসপেন্ড সহ ইন্ক্রিমেন্ট হেল্ড আপের মত নানাবিধ শাস্তি তো আছেই।
এরুপ অমানবিক কর্মব্যবস্থা থেকে প্রতিকার পাওয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানোর পরও কোন ব্যবস্থা না হওয়াতে রিট ৭৮৯৩/১০ দায়ের করা হয়। যা মহামান্য উচ্চ আদালত গত ১০ মার্চ ২০১৪ ইং তারিখে রায় দেন। রায়ের উল্লেখযোগ্য অংশ নিস্নরুপ
In view of the aforesaid we think that there is merit in this rule and it is made absolute. The unwritten rule of Bangladesh railway in subjecting the employees of its signal and telecommunications department to work for 24 hrs in a day 7 days in a week, 365 days a year (with the exception 20 days regular leave and 10 days CC leave per year which in practice is usually not available) without any weekly or gazette holidays or any define hours of rest as manifest by memo no E/1 establishment part 3/091444 dated 3/11/2009 issued by the divisional signal and telecommunications engineer Chittagong is hereby declared illegal and without lawful authority and of no legal effect and the respondent are directed to determine whether or not the service of the petitioners are essentially intermittent within the meaning of section 71 A of railway act 1890 and fix their hours of work, terms and condition of service commensurate to other public servants.
রিট পিটিশনের বিবাদীগন বাংলাদেশ প্রতিনিধি রেলপথ মন্ত্রণালয় ( বর্তমান), সচিব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ( বর্তমান) ও মহাপরিচালক বাংলাদেশ রেলওয়েকে ইহা বাস্তবায়নের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
উক্ত নির্দেশনাতে সংক্ষুব্ধ হয়ে মহামান্য সর্বোচ্চ আদালতে লীভ টু আপীল ৭১৭/১৫ দায়ের করা হয়। যা গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তে খারিজ হয়। রায়ের উল্লেখযোগ্য অংশ নিস্নরুপ
The high court division found that the railway authority has subjected and is continuing to subject the writ petitioners to inhuman degrading preventing them even a semblance of normalcy in their day to day existence, which is discriminatory, compared to other public servants.( The leave petitioner) failed to satisfy us that the aforesaid observation and the direction given by the high court division is not in conformity with the facts and the relevant laws. Accordingly, we do not find anything in the petition to grant leave.
ভুক্তভোগীদের পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপনের হাত থেকে রক্ষার্থে অন্যান্য দেশের সমতুল্য ও অন্যান্য সরকারি চাকরিজীবীর সমতুল্য সুযোগ সুবিধা দিয়ে তাদের কর্মপদ্ধতিতে আটঘন্টা কর্মকাল নির্ধারণ করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে সিগনাল এসোসিয়েশনের নেতারা প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here