ইয়াসমিন হত্যা দিবস আজ।

উপমহাদেশের ইতিহাসে দোষী পুলিশদের ফাঁসিতে মৃত্যু কার্যকরের ঘটনা এটাই প্রথম।

0
1465

১৯৯৫ সালের এই দিনে (২৪ আগস্ট) পুলিশি হেফাজতে ধর্ষন ও হত্যার শিকার হয়ে প্রাণ হারায় কিশোরী ইয়াসমিন। এ ঘটনায় পুরো দিনাজপুরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিলো সাধারন মানুষ।
সেদিন পুলিশি হেফাজতে তরুনী ইয়াসমিন ধর্ষন ও হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন সামু, সিরাজ ও কাদের নামে ৩ জন। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ জনতা দিনাজপুর কোতয়ালী থানা, ৩টি পুলিশ ফাঁড়ি, কাস্টমস গোডাউন, ৪টি পত্রিকা অফিসসহ বেশ কিছু স্থাপনা ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে জ্বালিয়ে দিয়েছিল।
১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট। দিনাজপুর শহরের দশ মাইল মোড়ে ভোর ৪টা দিকে শহরের দিকে ফিরছিলো অপেক্ষমান তরুণী ইয়াসমিন। ফজরের নামাজ পড়তে বের হওয়া স্থানীয় মুসল্লিরা নিরাপদে যেতে তাকে তুলে দিলেন একটি পুলিশ ভ্যানে। মুসল্লিরা কোতয়ালী পুলিশকে অনুরোধ করলেন তরুনীকে দিনাজপুরে পৌঁছে দিতে। কিন্তু পুলিশ ভ্যানে উঠেই ইয়াসমিনকে বিদায় নিতে হয় পৃথিবী থেকে। ১০ মাইল থেকে দিনাজপুর শহরে আসার পথে ব্র্যাক স্কুলের সামনে ভোরের দিকে পুলিশ ভ্যানে উপস্থিত ৩ জন সদস্য এসআই মইনুল, কনেস্টবল সাত্তার ও অমৃত ইয়াসমিনের শ্লীলতাহানী ঘটিয়ে চলন্ত পিক আপ ভ্যান থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
বিশেষ আদালতে ইয়াসমিন হত্যা মামলার স্বাক্ষ্য প্রমাণ শেষে দোষী প্রমাণিত ৩ পুলিশ সদস্যেকে ফাঁসি দেওয়া হয়। উপমহাদেশের ইতিহাসে দোষী পুলিশদের ফাঁসিতে মৃত্যু কার্যকরের ঘটনা এটাই প্রথম।
ইয়াসমিনের স্মরণে দিনাজপুরের দশ মাইল এলাকায় তৈরী করা হয়েছে ইয়াসমিন স্মরণী।
– Beautiful Dinajpur

Facebook Comments